সরকারি সেবা প্রদানের প্রচলিত দৃশ্যপট বদলে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের দোরগোড়ায় সস্তায়, সহজে, দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পৌঁছে দেয়াই ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সর্বত্র সমন্বিত ই-সেবা কাঠামো গড়ে তুলেছে। ফলে যে কোনো জায়গা থেকে জনগণ যে কোনো সময় তার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সেবা গ্রহণ করতে পারছে। এতে সাধারণ মানুষের সময়, ভোগান্তি কমেছে, স্বাচ্ছন্দতা বেড়েছে এবং জনজীবন সহজ হয়েছে। মানুষের কর্মসময় বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের উন্নতি ত্বরান্বিত হ্ওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিচালিত একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে দেশব্যাপী। যার কারিগরি সহায়তায় রয়েছে ইউএনডিপি। এ প্রকল্পের অধীনে প্রথম ধাপে সহজে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে প্রায় সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তর নিজস্ব উদ্যোগে বৃহৎ পরিসরে ই-সেবা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটুআই প্রকল্পের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি নাগরিক কোনো না কোনো ই-সেবা উপভোগ করছে।
প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য কিছু ই-সেবা কার্যক্রম:
ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র (ইউআইএসসি/ইউডিসি): ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং একসেস টু ইনফরমেশন (এট্আুই) প্রকল্পের একটি যৌথ উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইউএনডিপির প্রশাসক মিস হেলেন ক্লার্ক ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে সকল ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র উদ্বোধন করেন। ইউআইএসসির মূল লক্ষ্য হলো, ইউনিয়ন পরিষদকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। যাতে এই সব প্রতিষ্ঠান ২০২১ সালের মধ্যে একটি তথ্য ও জ্ঞান-ভিত্তিক দেশ প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এই সব কেন্দ্র সরকারি, বেসরকারি তথ্য ও সেবাসমূহ জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যেতে, প্রযুক্তি বিভেদ দূও করতে ও সকল নাগরিককে তথ্য প্রবাহের আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে সুদুরপ্রসারী ভূমিকা রাখতে পারে।
ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বা ইউডিসি প্রতিষ্ঠার ফলে সাধারণ নাগরিক এখন সহজে ও কম খরচে, ঝামেলাহীনভাবে প্রায় ৬০ ধরনের সরকারি বেসরকারি সেবা পাচ্ছে। ইউডিসি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১১ কোটি সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং এসব সেবা প্রদান করে উদ্যোক্তারা মাসে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা আয় করছেন। ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র (ইউআইএসসি) স্থাপনের মাধ্যমে সারা দেশে ৪ হাজার ৫শ ১৬ টি গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য ও সেবা প্রাপ্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ গ্রামগুলোতে স্থাপন করা সেবাকেন্দ্র থেকে বর্তমানে প্রতিমাসে গড়ে ৪৫ লাখ মানুষ বিভিন্ন তথ্য ও সেবা গ্রহণ করতে পারছে।
যেসব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এসব সেবাকেন্দ্রে : এসব ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র থেকে সেখানকার মানুষ সহজেই সরকারি ফরম, নোটিশ, পাসপোর্ট-ভিসা সংক্রান্ত তথ্য, জাতীয় ই-তথ্যকোষ, আইন বিষয়ক তথ্য, চাকুরির খবর, নাগরিকত্ব সনদপত্র, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, জমির পর্চা, পল্লী বিদ্যুতের বিল পরিশোধ, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অনলাইন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ভিজিএফ-ভিজিডি তালিকা, নাগরিক আবেদন, কৃষি তথ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ, মোবাইল ব্যাংকিং, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ছবি তোলা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইমেইল, চাকরির তথ্য, কম্পোজ, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংরেজি শিক্ষা, ভিসা আবেদন ও ট্র্যাকিং, ভিডিও কনফারেন্সিং, প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, ফটোকপি, লেমিনেটিংসহ অন্যান্য সরকারি তথ্য পাচ্ছেন। প্রচলিত সেবার বাইরে এসব কেন্দ্র থেকে বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং, জীবন বীমা, মাটি পরীক্ষা ও সারের সুপারিশ এবং জেলা প্রশাসক অফিসে জমির পর্চাসহ অন্যান্য সেবার আবেদন করা যাচ্ছে। বর্তমানে ২ হাজার ৭শ ৭৩ কেন্দ্র থেকে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে গড়ে প্রতিদিন ১৫ কোটি টাকার বেশি টাকা আদান-প্রদান হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অর্থ শহর থেকে গ্রামে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ২হাজার ৬৪টি কেন্দ্রে চালু করা হয়েছে জীবন বীমা কর্পোরেশনের বীমা সুবিধা। সাম্প্রতিককালে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু ১৪ লাখ কৃষি শ্রমিকের অনলাইন নিবন্ধন করা হয়েছে।
কিছু উল্লেখযোগ্য সেবার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা :
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেবা: কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান ইউআইএসসির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেবা। একটি প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। র্বতমানে ৩ হাজার ৭শ ৭৩টি ইউডিসি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার করে স্বল্পমূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। ২০১০ সালের নভেম্বও থেকে মার্চ ২০১৪ পর্যন্ত প্রায় ৫২ হাজার ছাত্র-যুবক ইউডিসি থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন।
বীমা : গ্রামের মানুষরে কাছে বীমা সুবিধা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় বীমা প্রতিষ্ঠান জীবন বীমা কর্পোরেশন দেশের ২ হাজার ৭শ ৬৮টি ইউডিসিতে জীবন বীমা সেবা চালু করেছে। এ পর্যন্ত মোট ৩৬ হাজার নাগরিক বীমা সেবা গ্রহণ করেছেন।
ব্যাংকিং সুবিধা : বঞ্চিত তৃণমুল মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ৪টি ব্যাংক (ডাচ বাংলা ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও বিকাশ) দেশের ২ হাজার ৩শ ৬৩টি ইউআইএসসিতে মোবাইল ব্যাংকিং র্কাযক্রম চালু করেছে। যার মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার নাগরিক সেবা গ্রহণ করছেন।
পল্লী বিদ্যুৎ বিল : জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এ পর্যন্ত ৭শ ২৭টি ইউডিসির মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুতের বিল প্রদানের ব্যবস্থা করেছে।
স্বাস্থ্য সেবা : গ্রাামীণ জনপদের স্বাস্থ্য সুবিধা বঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সুবিধা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় বর্তমানে ৩০টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) থেকে টেলিমেডিসিন চালু করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫শটিরও বেশি ইউডিসিতে স্বাস্থ্য ক্যাম্প চালু রয়েছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি : ইউনয়িন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে কার্যকর করে তুলেছেন ইউডিসি উদ্যোক্তারা। প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে উদ্যোক্তা কাজ করেন। এদের একজন ছেলে এবং একজন মেয়ে। একজন নারী উদ্যোক্তা থাকার ফলে কেন্দ্রে নারীদের সহজ প্রবেশগম্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্যোক্তাদের একজন বিনিয়োগকারী। চাকুরীজীবি নয়। জনগণকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত আয় থেকেই উদ্যোক্তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। অর্থাৎ ৪ হাজার ৫শ ৪৭টি কেন্দ্রে মোট ৯ হাজার ৯৪ জন তরুন আইসিটি উদ্যোক্তার আত্ম-র্কমসংস্থান হয়েছে।
পৃথিবীর অনেক দেশ পরীক্ষামূলকভাবে টেলিসেন্টার, ওয়ান স্টপ সার্ভিস এবং ইনফরমেশন সেন্টার চালু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ ছাড়া আর কোন দেশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে একযোগে উদ্বুদ্ধ করে সারাদেশে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করে কেন্দ্রসমূহকে গণমূখী করতে পেরেছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ইউআইএসসি/ইউডিসি স্থাপনের মাধ্যমে জনগণের দোঁড়গোড়ায় সরকারি-বেসরকারি সেবা পৌঁছানো, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা এবং র্কমসংস্থান সৃষ্টির কাজ একসঙ্গে হয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় এটি ছিল অচিন্তনীয় এবং বলতে গেলে বিশ্ব বাস্তবতায়ও অকল্পনীয়।
ইউআইএসসি ব্লগ : ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন উদ্ভাবন, মতামত, সমস্যা ও এর সমাধানসহ নানা অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে শেয়ার করার লক্ষ্যে চালু করা হয় ইউআইএসসি ব্লগ। ইতিমধ্যে ব্লগটি দেশে বিদেশে প্রশংসা লাভ করেছে। বর্তমানে ইউআইএসসি ব্লগটিতে উদ্যোক্তা, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জন প্রতিনিধি, সচিব ও মন্ত্রীসহ মোট ১৩ হাজার ৫শ সদস্য রযেছে। ব্লগটিতে মোট পোস্টের সংখ্যা ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি।
জেলা ই-সেবাকেন্দ্র: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন যৌথভাবে ২০১১ সালের ১৪ নভেম্বর একযোগে দেশের সকল জেলায় ই-সেবাকেন্দ্র কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। জেলা ই-সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি, ডাকযোগে অথবা অনলাইনে সেবার আবেদন করতে পারছে। এর ফলে সেবার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি যে কোনো সময় যে কোনো স্থান থেকে সেবা নেয়া বা দেয়া যাচ্ছে। আবেদনে করা হলে আবেদনকারীকে একটি গ্রহণ রশিদ দেয়া হচ্ছে, ফলে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকান্ড এখন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯ লাখের বেশি নাগরিক আবেদন অনলাইনে নিস্পত্তি করা হয়েছে। জেলা ই-সেবাকেন্দ্র চালু হওয়ার ফলে জনগণের হয়রানি বন্ধ হওয়া, সময়, শ্রম বেচে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থেরও সাশ্রয় হচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে এসেছে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা। কমেছে দুর্নীতি।
ই-পর্চা: এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহজেই অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ডরুম থেকে জমির বিভিন্ন রেকর্ডের ( এসএ, সিএস, বিআরএস) নকল/পর্চা/ খতিয়ান/ সার্টিফাইড কপি পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে একদিকে জনগণ যেমন কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই দ্রুত সেবা পাচ্ছেন, অন্যদিকে সরবরাহকৃত রেকর্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাইজ হয়ে যাচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও এটুআই প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে ৬৪ জেলার রেকর্ডরুমের সকল রেকর্ড (এসএ, সিএস, বিআরএস খতিয়ান কপি) ডিজিটাইজ করা হচ্ছে। এ যাবৎ ১৪ লক্ষ ৫০ হাজার রেকর্ড অনলাইনে এবং ২ লক্ষ ৫০ হাজার রেকর্ড ইউআইএসসি থেকে প্রদান করা হয়েছে।
ন্যাশনাল ই-সার্ভিস সিস্টেম (এনইএসএস) : বাংলাদেশের সকল অধিদপ্তর, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের সরকারি অফিস থেকে প্রদত্ত সেবাসমূহকে ই-সেবায় রূপান্তরের লক্ষ্যে জাতীয়ভাবে একটি এককেন্দ্রীক সমন্বিত ই-সার্ভিস প্লাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে যা ন্যাশনাল ই-সার্ভিস সিস্টেম (নেস) নামে পরিচিত। এই এককেন্দ্রীক ই-সার্ভিস প্লাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিটি নাগরিক সেবা প্রদানের বিভিন্ন পর্যায় ও অগ্রগতি তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারবে।
ই-সার্ভিস সিস্টেম এর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ই-ফাইলিং, ই-ফর্ম, ই-যোগাযোগ, ই-সার্ভিস ব্যবস্থাপনা, ব্যবহারকারী ব্যবস্থাপনা, গর্ভমেন্ট ডিরেক্টরি এ্যাকসেস সার্ভিস, ই-ডিরেক্টরি, ন্যাশনাল ই-সার্ভিস পোর্টাল, সিটিজেন ওয়েব একাউন্ট, ই-নোটিফিকেশন এবং নেস ওয়েব সার্ভিসেস। পর্যায়ক্রমে দেশের ১৬ হাজার সরকারি অফিসে ই-সার্ভিস সিস্টেম চালু করা হবে যেখানে ৬০ হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি এটি ব্যবহার করবেন। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চারশর বেশি সরকারি সেবাকে ই-সেবায় রূপান্তর করা হবে। যশোর জেলার ২৪০টি সরকারি অফিসে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করা হয়। এ প্রক্রিয়ার আওতায় ৬০০ কর্মকর্তা-কর্মচারিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর ডিজিটাল যশোর উদ্বোধনকালে পরীক্ষামূলকভাবে ই-সার্ভিস সিস্টেম উদ্বোধন করেন।
জীবন ও জীবিকাভিত্তিক তথ্য নিয়ে জাতীয় ই-তথ্যকোষ : জীবন-জীবিকাভিত্তিক তথ্য এক জায়গায় সহজে খুঁজে পেতে চালু করা হয়েছে বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বড় তথ্যভান্ডার, জাতীয় ই-তথ্যকোষ (িি.িরহভড়শড়ংয.নধহমষধফবংয.মড়া.নফ)। জাতীয় ই-তথ্যকোষে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন ও মানবাধিকার, পর্যটন, কর্মসংস্থান, নাগরিক সেবা, অকৃষি উদ্যোগ, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে বাংলা ভাষায় তথ্য সন্নিবেশিত আছে। এসব তথ্য টেক্সট, অ্যানিমেশন, ছবি, অডিও এবং ভিডিও আকারে পাওয়া যায়। জাতীয় ই-তথ্যকোষে ১০ হাজার বিষয়ের ওপর বর্তমানে প্রায় ১ লাখ পৃষ্ঠা তথ্য রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ৩শ ৫০ টি প্রতিষ্ঠান একযোগে জাতীয় ই-তথ্যকোষ প্রণয়ন ও উন্নয়নের কাজ করছে। জাতীয় ই-তথ্যকোষের ওয়েবসাইট থেকে জানুয়ারি ২০১৩ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১০ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের তথ্য নিয়েছে।
মোবাইল কী-প্যাড ও বাংলায় এসএমএস চালু: বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা নিশ্চিত করতে মাতৃভাষায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম। যে কারণে, মোবাইল ফোনের সাধারণ ব্যবহারকারীরা যাতে সহজেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন সেট থেকে মাতৃভাষা বাংলায় এসএমএস পাঠাতে এবং পড়তে পারে সেজন্য মোবাইল ফোনে ব্যবহার উপযোগী বাংলা কী প্যাড চালু করা হয়েছে। তাছাড়া, ৩১ জানুয়ারি ২০১২ এর পর থেকে বাংলা কী প্যাড ছাড়া যেকোনো ধরনের মোবাইল সেট আমদানীর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বর্তমানে স্মার্ট ফোনে উপযোগী কীপ্যাড চালু করার কাজ চলছে।
আমার বর্ণমালা : সাধারণ মানুষের চাহিদা মাথায় রেখে ইউনিকোড সুবিধা সম্বলিত প্রমিত বাংলা ফন্ট ‘আমার বর্ণমালা’ প্রস্তুত ও সকলের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে অনলাইনে বাংলা ভাষা চর্চার জন্য একাধিক বাংলা ফন্ট থাকলেও তা বাংলা একাডেমীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অনুমোদন ছাড়াই প্রস্তুত করা হয়েছে।
জাতীয় পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্ক ও ওয়েবসাইট : দেশের সকল ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ, অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়সহ সকল সরকারি দপ্তরের জন্য প্রায় ২৩ হাজার পোর্টাল (তথ্য বাতায়ন) নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। ২৪ হাজার সরকারি অফিসের ওয়েবসাইট নির্মাণ শেষ হয়েছে। আগামী মার্চ, ২০১৩ এর মধ্যে এটি পুরোপুরি চালু হবে। সকল দপ্তরে পোর্টাল চালু হলে জনগণের তথ্য ও সেবা প্রাপ্তি আরো সহজ হয়ে উঠবে।
মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ডিজিটাল বিষয়বস্তু : ‘তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তি’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’ ও ‘শিক্ষক র্কতৃক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি’ নামে দুটি মডেল উদ্ভাবন করা হয়েছে। বাংলাদেশের এ মডেল অনেক উন্নয়নশীল দেশ অনুসরণে আগ্রহ প্রকাশ করছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের উপযোগী বিষয় তৈরি করে শ্রেণীকক্ষে ব্যবহার করছেন। শিক্ষকদের তৈরি করা এসব বিষয় িি.িরপঃরহবফঁনফ.হরহম.পড়স নামক একটি ব্লগে রাখা হয়েছে। অন্য শিক্ষক প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করছেন এবং এর গুণগত মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। বর্তমানে এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ২০ হাজার ৫শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। ২০১৬ সালের মধ্যে দেশের সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষ স্থাপন করা হবে। মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষের মাধ্যমে শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালিত হলে আমাদের নতুন প্রজন্ম মানসম্মত শিক্ষা পাবে। ফলে তারা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে। প্রায় ৭০ লক্ষ শিক্ষার্থী এর মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবে বলে মনে করছে এটুআই কর্তৃপক্ষ।
ই-বুক: পাঠ্যপুস্তককে আকর্ষণীয়, চিত্তাকর্ষক, ফলপ্রসূ ও যুগোপযোগী করার জন্য প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি ও শিক্ষাবোর্ডের ৩শ ২৫টি পাঠ্যপুস্তক এবং ১শটির বেশি সহায়ক বই ই-বুকে রূপান্তর করা হয়েছে। প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল ই-বুকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। িি.িবনড়ড়শ.মড়া.নফ ওয়েবসাইট থেকে এসব ই-বুক পড়া, ডাউনলোড ও প্রিন্ট নেয়া যায়। কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ই-বুক রিডার, আই-প্যাড, সিডিতে সহজে পাঠযোগ্য হওয়ায় পাঠকদের ই-বুক ব্যবহার ও প্রকাশনা খুবই সম্ভাবনাময়। এ পর্যন্ত ১১ লক্ষ ব্যবহারকারী ই-বুক সাইট ব্যবহার করেছেন।
অনলাইনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারি কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ড আবেদন ব্যবস্থাপনা: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরকালীন ভাতা ঝামেলামুক্ত উপায়ে নিশ্চিত করতে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারি কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডে অনলাইন আবেদন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গত ৬ মার্চ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারি কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর সুবিধা বোর্ড এর অনলাইন আবেদন ব্যবস্থাপনা উদ্বোধন করেন। এর ফলে দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারি অনলাইনে তাদের অবসরকালীন সুবিধার আবেদন করতে পারছেন।
ই-পুজি : দেশের ১৫টি চিনিকলের সব আখ চাষী এখন এসএমএস এর মাধ্যমে তথ্য পাচ্ছেন। এর ফলে আখচাষীদের দীর্ঘ দিনের বিড়ম্বনার অবসান হয়েছে। এর পাশাপাশি ঠিক সময়ে মিল গেটে আখ সরবরাহ হচ্ছে। যার ফলে চিনিকলের উৎপাদনও বেড়েছে। ই-পুজি চালুর হওয়ার ফলে প্রতিবছর দুই লাখের বেশি আখ চাষী সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। এ পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি পুজি তথ্য অনলাইনে ইস্যু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর ই-পুজি ব্যবস্থাপনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর আগের বছর ২০০৯ সালে এটুআই প্রোগ্রামের উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে ফরিদপুর ও ঝিনাইদহের দুটি চিনিকলে ই-পুজি চালু করা হয়।
লার্নিং এ্যান্ড আর্নিং : তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বর্তমানে অনলাইন আউটসোর্সিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সারাদেশের একদল তরুণ ইতিমধ্যে আউটসোর্সিং কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। এ বাস্তবতায়, একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের আওতায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নীতিমালায় ‘লার্নিং এ্যান্ড আর্নিং’ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনলাইন আউটসোর্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপার্জন সক্ষম করে তোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঢাকাসহ ১৫টি জেলার ২ হাজার শিক্ষার্থীকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
অনলাইন ট্যাক্স ক্যালকুলেটর ও অনলাইন ট্যাক্স রিটার্ন প্রস্তুত : এ পদ্ধতির মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে আয়করের হিসাব বের করা এবং আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করা যায়। এ পর্যন্ত ২ লাখ ২৩ হাজারের অধিক করদাতা এর মাধ্যমে অনলাইনে ট্যাক্স রিটার্ন-প্রস্তুত করেছেন। এছাড়া এ বছর থেকে অনলাইনের মাধ্যমেও ট্যাক্স প্রদান করা যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৯শ জন নাগরিক অনলাইনে ১ কোটি টাকার বেশি ট্যাক্স প্রদান করেছেন।
ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার ও পোস্টাল ক্যাশ কার্ড : বাংলাদেশ ডাক বিভাগ তাদের ২ হাজার ৭শ ৫০টি পোস্ট অফিস থেকে ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার চালু করেছে। ডাক বিভাগের এ সেবার মাধ্যমে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ১ মিনিটের মধ্যে পোস্ট অফিস থেকে অর্থ প্রেরণ ও গ্রহণ করা যায়। আগে একটি মানি অর্ডার পাঠাতে ৩-৭ দিন সময় লাগতো। গত ৩ বছরে প্রায় সাড়ে ৯৪ লাখ গ্রাহক এ সেবা গ্রহণ করেছে। এ সময়ের মধ্যে মোট ৪ হাজার ৩শ ৯৮ কোটি টাকা আদান-প্রদান করা হয়েছে। এ সেবা দিয়ে ডাক বিভাগ ৫৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে।
পোস্টাল ক্যাশ কার্ড বাংলাদেশ ডাক বিভাগ পরিচালিত এক ধরনের ডেবিট কার্ড। এ কার্ডের মাধ্যমে একজন গ্রাহক তার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা রেখে পরবর্তীতে জমাকৃত অর্থ থেকে প্রয়োজনমত অর্থ উত্তোলন, অন্য কার্ডধারীর কাছে টাকা প্রেরণ ও নির্দিষ্ট আউটলেট থেকে কেনাকাটা করতে পারবেন। মাত্র ৪৫ টাকা দিয়ে এ্যাকাউন্ট খোলা হলে গ্রাহকে এ্যাকাউন্টে ১০ টাকা ব্যালেন্স থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ২৬ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বর্তমানে দেশের ৮শ ৩৮টি পোস্ট অফিসে এ সেবা চালু রয়েছে। এ কার্ডের মাধ্যমে ৬ কোটি টাকার সামাজিক ভাতা প্রদান ছাড়াও ২৬ কোটি টাকার বেশি আদান-প্রদান করা হয়েছে।
মোবাইল ফোনে সেবা : একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম সূচক হলো তার টেলি-ঘনত্ব। বাংলাদেশে বর্তমানে ৯ কোটির বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী রয়েছে। দ্রুত সম্প্রসারণশীল এ প্রযুক্তি এখন গ্রামের দরিদ্র কৃষকের হাতেও। মোবাইল ফোন শুধু কথার বলার যন্ত্রই নয় বরং এর মাধ্যমে নানাবিধ তথ্য ও সেবা প্রদান করা সম্ভব। এ বাস্তবতায়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সেবা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব সেবা চালুর ক্ষেত্রে একসেস টু ইনফরমেশন (এট্আুই) প্রকল্প কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে। এ সেবার মাধ্যমে যেসব সুবিধাদি অর্জিত হয়েছে তার মধ্যে কয়েকটি হলো:
* বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস ইত্যাদির বিলসহ বিভিন্ন ধরনের নাগরিক পরিসেবার বিল পরিশোধ করার জন্য এখন মোবাইল ফোনই যথেষ্ট। এ যাবৎ ২ কোটির বেশি নাগরিক পরিষেবার বিল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে।
* রেলওয়ে টিকেট এখন মোবাইল ফোন ও অনলাইনে ক্রয় করা যাচ্ছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫ লক্ষ ১৩ হাজার এবং অনলাইনে ১ লক্ষ ৪২ হাজার টিকেট বিক্রয় করা হয়েছে।
* মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এবং অনলাইনে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে। ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত অনলাইনে ৬ কোটি এবং মোবাইল ফোনে সাড়ে ৩ কোটি শিক্ষার্থী পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল পেয়েছে।
* মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে ৩২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ৪শটি কলেজ এবং ৭০ টি মেডিকেল কলেজে (সরকারি-বেসরকারি) এ সেবা চালু রয়েছে। গত ৩ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ২৭ লক্ষ শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনে আবেদন করেছে।
ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা : ই-সেবা সম্পর্কে ধারণা প্রদান ও কোথায় কীভাবে এসব সেবা পাওয়া যায় তা সাধারণ মানুষকে জানানোর জন্য ইতোমধ্যে জাতীয় পর্যায়ে সকল বিভাগে ও সকল জেলায় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা সেবাদানকারী এবং সেবাগ্রহণকারীর মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার সঙ্গে মানুষকে ব্যাপকভাবে পরিচিত করার উৎকৃষ্ট মাধ্যম। ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা থেকে বর্তমান সেবার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ই-সেবা বিষয়ে সাধারণ মানুষ ধারণা পেয়ে থাকে।
ই-এশিয়া-২০১১ : স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তিতে ২০১১ সালের ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর ঢাকায় আয়োজন করা হয় এশিয়ার সবচেয়ে বড় আইসিটি ইভেন্ট ই-এশিয়া-২০১১। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প এ আয়োজনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। ই-এশিয়া-২০১১ তে তথ্য ও যোগোযোগ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এশিয়ার দেশগুলো কী কী অর্জন করেছে সে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবন তুলে ধরা হয়। এ আয়োজনে মোট ৩০টি সেমিনারর আয়োজন করা হয়। তাতে ২শ আন্তর্জাতিক বক্তা অংশ নেন। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এ মেলায় অংশ নেয়। উন্নয়নে তথ্য প্রযু্ক্িত ব্যবহারে বিশেষ অবদানের জন্য ১৭টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। ইন্টেল এর জন ডেভিস এবং ওডেস্ক এর ম্যাট কুপার এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। এ মেলার ফলে দেশের তরুণদের আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হয়েছে।
(ডব্লউিএসআইএস)' পুরস্কার: বভিন্নি সরকারি ও বসেরকারি সবোসমূহ অনলাইনে এবং ইউনয়িন ডজিটিাল সন্টোররে মাধ্যমে জনগণরে দােরগােড়ায় পৌঁছে দয়িে বশ্বিসরো সম্মানে ভূষতি হয়ছেে বাংলাদশে। আইসটিি খাতে সবচয়েে সম্মানজনক স্বীকৃতি 'ওর্য়াল্ড সামটি অন দ্য ইনফরমশেন সােসাইটি (ডব্লউিএসআইএস)' পুরস্কার-২০১৪ তে এ ১৫০ টি প্রকল্পকে পছেনে ফলেে ‘জনগণরে দােরগােড়ায় সবো' ক্যাটাগরতিে এ পুরস্কার র্অজন করছেে বাংলাদশে সরকাররে প্রধানমন্ত্রীর র্কাযালয়রে একসসে টু ইনফরমশেন (এইটুআই) প্রকল্প।
ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা সম্মলেন : আগামী ১১ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষ্যে উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করা ও তাদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার জন্য জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে ‘ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব জনাব মনজুর হোসেন।
“ইতোমধ্যে জনগণ ডিজিটাল বাংলাদেশের নানামুখী ই-সেবা'র সুফল পেতে শুরু করেছে”-কবির বিন আনোয়ার
প্রকল্প পরিচালক, এটুআই
মহাপরিচালক, প্রশাসন, প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়
সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষকে সর্বাধিক সুযোগ দিয়ে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করাই ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল উদ্দেশ্য। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেছিলেন তা বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়া এই অবাধ তথ্য প্রবাহ। আর এ জন্য নেয়া হয়েছে নানামুখী উদ্যোগ। সবার জন্য ই-সেবা চালু করার জন্য নিরন্তর কাজ করে চলেছে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম। ইতোমধ্যে জনগণ ডিজিটাল বাংলাদেশের নানামুখী ই-সেবা'র সুফল পেতে শুরু করেছে। গত চার বছরের কর্মোদ্যোগ থেকে জনগণের মধ্যে এই আস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে, সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সত্যিই আন্তরিক এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই তা বাস্তবায়ন সম্ভব।
“আমরা কাজ করছি একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে”- নাইমুজ্জামান মুক্তা
জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ, এটুআই
বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশকেও এগিয়ে নেয়া দরকার। এ উপলব্ধিটা আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনুধাবন করেছিলেন। তিনি ভেবে দেখেছিলেন, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেশের সার্বিক পদ্ধতিকে ডিজিটাইজ করার কোনো বিকল্প নেই। তাই তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার চিন্তা করেছিলেন। কিভাবে সে বাংলাদেশ গড়া হবে তারও পরিকল্পনা করেছিলেন। আমরা তার বাস্তবায়ন করছি মাত্র। আমরা কাজ করছি জনগণের কাছে ডিজিটাল পদ্ধতির সেবা একেবারে দোরগোড়ায় পৌছে দেয়ার জন্য। এজন্য আমরা কাজ করছি একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে। বাংলাদেশের মানুষ ইতিমধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করেছে। আশা করি খুব অল্পদিনে আমরা দেশের সকল মানুষকে অনেক ঝামেলাহীন, সহজ জীবন যাপন প্রক্রিয়ার ভেতরে আনতে পারবো।
এক নজরে ডিজিটাল বাংলাদেশ
* ইউনয়িন ডজিটিাল সন্টোররে সংখ্যা ৪,৫৪৭টি
* নগর ডজিটিাল সন্টোররে সংখ্যাঃ ৪০৭টি
* পৌর ডজিটিাল সন্টোররে সংখ্যাঃ ৩২১টি
* সবোর সংখ্যা ৬০ ধরনরে (সরকারী ও বসরেকারী মলিয়ি)ে
* মোট উদ্যোক্তাঃ ৯,০৯৪ জন
* সবো গ্রহণকারীর সংখ্যাঃ প্রতি মাসে ৪৫ লক্ষ লোক সবো নচ্ছিে সকল ডজিটিাল সন্টোর থকে।ে
* ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র থেকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে এ যাবৎ ১শ ২৮ কোটি টাকা উপার্জন
* মোবাইলের মাধ্যমে ২ কোটি নাগরিক পরিসেবার বিল পরিশোধ
* জেলা ই-সেবাকেন্দ্র থেকে অনলাইনে ৯ লাখ নাগরিক আবেদন নিস্পত্তি
* জেলা ই-সেবাকেন্দ্র থেকে অনলাইনে ১৭ লাখ অনুলিপি প্রদান
* ২০ লাখ আখচাষীর মোবাইলে পূর্জি তথ্য প্রেরণ
* ডাক বিভাগের মাধ্যমে ৯৪ লাখ ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার প্রেরণ
* অনলাইনে ৬ কোটি ও মোবাইলে সাড়ে ৩ কোটি শিক্ষার্থীর পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল লাভ (২০১০ থেকে ২০১৩ এর জানুয়ারি পর্যন্ত)
* মোবাইলের মাধ্যমে ২৭ লাখ ভর্তির আবেদন (২০১০ থেকে ২০১২ পর্যন্ত)
* রেলওয়ের ৫ লাখ টিকেট মোবাইলে বিক্রয়
* ২ লাখের বেশি নাগরিকের অনলাইন ট্যাক্স ক্যালকুলেটর ব্যবহার
* ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষে পাঠদান
* ১২ হাজার শিক্ষককে কনটেন্ট তৈরির প্রশিক্ষণ প্রদান
মোছাঃ তম্বি আক্তার
উদ্দ্যোক্তা
১৩নং শ্রীপুর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার
সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা।